ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্তিত্বসংকটে পটুয়াখালীর নদী-খাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২৪ ১১:৩১:০৬
অস্তিত্বসংকটে পটুয়াখালীর নদী-খাল অস্তিত্বসংকটে পটুয়াখালীর নদী-খাল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী একসময় স্রোতস্বিনী নদ-নদী আর খালের জন্য পরিচিত হলেও দিন দিন তা হুমকির মুখে পড়েছে। কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে এসব নদী ও খালের অধিকাংশই দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে হারিয়ে ফেলেছে তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ। একসময় জেলার কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতি নির্ভর করত যে প্রবহমান নদ-নদীর ওপর, তা আজ প্রাকৃতিক ও মানুষের বেপরোয়া নীতির কারণে ভয়াবহ অস্তিত্বসংকটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইস গেট, সেতু নির্মাণ এবং স্রোতের গতিপথ বদলে যাওয়ার কারণে উজান থেকে পলি পড়ে পটুয়াখালীর নদী ও খালগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শুকিয়ে যাওয়া এসব খাল, নদীর জমি ও তীর দখলের মহোৎসব চলছে। দখল হয়ে যাওয়া এসব নদী-খালের তীরে অবৈধভাবে দোকান, আবাসিক ভবন ও বাজার নির্মাণ করেছে দখলবাজরা। নদী ও খালের এই দুরবস্থার কারণে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে মানুষসহ জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপকূলীয় জেলাটির প্রধান নদ-নদী পায়রা, লোহালিয়া, লাউকাঠি, আগুনমুখা, আন্দারমানিক, রামনাবাদ, তেতুলিয়া, পটুয়া, বুড়াগৌরাঙ্গ, গলাচিপা, ভাড়ানি, কালাইয়া, আলগি, ধুলিয়া, শ্রীমন্ত নদীসহ ৪০টি নদী এবং ৯৮৮টি খাল জেলাকে জালের মতো জড়িয়ে রেখেছে। জেলার আট উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৪৩ কিলোমিটার এবং খালের দৈর্ঘ্য এক হাজার ৭৫৪ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার।

বাংলাদেশ নদীরক্ষা কমিশনের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নদীতীর ও জমি দখলদারের সংখ্যা ৯৯৯ জন। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরে ৩০১, গলাচিপা উপজেলায় ২৮৯, কলাপাড়ায় ১৮৬, রাঙ্গাবালীতে ৫৫, বাউফলে ১১২ ও মির্জাগঞ্জে ৭৮ জন দখলবাজের কবলে। দখলবাজরা স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগসাজশে নামে-বেনামে নদী এবং খালের জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে দখল করছে।

পটুয়াখালীর অন্যতম প্রধান নদী গলাচিপা। নদীটির বিভিন্ন পয়েন্টে প্রশস্ততা ও গভীরতা কমে নেমে এসেছে এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকটে নদীটি দিয়ে ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শেখাটি ও কলাগাছিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ কমে এ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে। গলাচিপা পৌরসভা অভ্যন্তরে ও চিকনিকান্দি বাজার-সংলগ্ন এলাকায় নদীটি এখন সংকীর্ণ হয়ে খালের আকার ধারণ করেছে। সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় এ এলাকায় ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে এক দশকের বেশি সময় ধরে। আবার নদীর গলাচিপা পৌর এলাকার মধ্যকার অংশটি এখন প্রায় পুরোপুরিই দখলদারদের পেটে।

জেলার গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নদী লোহালিয়া। পটুয়াখালী শহরের পূর্বদিক দিয়ে বয়ে যাওয়া লোহালিয়া নদীর পটুয়াখালী নদীবন্দরের প্রবেশমুখে চর জেগে ওঠা এবং নাব্য সংকটের কারণে নৌযানগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ভাটার সময় নৌযানগুলো চরে আটকে নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গলাচিপা ও লোহালিয়া নদীর মতো বাকি নদীগুলোর অবস্থা অনেকটা একই। নদীগুলোর এমন পরিস্থিতির জন্য পানিপ্রবাহ হ্রাস ও পলিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছে বিআইডব্লিউটিএ। পানিপ্রবাহ হ্রাস ও পলি পড়ে নদীগুলোতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। তাই কঠিন হয়ে পড়েছে নৌচলাচল।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ